চাদঁপুর জেলার ভুতের গল্প সত্য ঘটনা |২০২২|

আসসালামু আলাইকুম। আশা করছি সবাই ভালো আছেন। যারা এখন আমার এই লেখাটি পড়ছেন,  আশা করছি তারা সবাই ভুতের গল্প শুনতে অনেক ভালোবাসেন।

চাদঁপুর জেলার ভুতের গল্প সত্য ঘটনা |২০২২|



ভুতের গল্প সত্য ঘটনা 



আমি থাকি চাদঁপুর জেলায়। অনেকদিন ধরে ভাবছিলাম একটা ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করব কিন্তু সময় হয়ে উঠছিল না। তাই আজ সময় করে লিখেই ফেললাম। আমি যে ঘটনাটি শেয়ার করব সেটি ঘটে আমার  সাথে ঘটা ভুতের গল্প সত্য ঘটনা।

       

ঘটনাটি নিজের মতো করে উপস্থাপন করছি ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।



ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আমি আমার পরিচয় গোপন রাখতে চাচ্ছি। আমি যে ঘটনাটি শেয়ার করছি সেটি আমার সাথে ঘটে যাওয়া  ভুতের গল্প সত্য ঘটনা। আমি চাঁদপুর জেলার কোন এক গ্রামে বসবাস করি।

 

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা 



এখন গ্রাম  গুলিতেও শহরের  ছোঁয়া লেগে গিয়েছে। গ্রামেও এখন জীন বা ভূতে বিশ্বাস করে না।ভূত বা জীন বলতে নাকি কিছুই নেই কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে যার সাথে ঘটে যায় তিনি বুঝতে পারেন। সব কথা বর্ণনা করে কিংবা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, তাই আমি সরাসরি ঘটনায় চলে যাচ্ছি।  আমি অনেকদিন ধরেই টিউশানি করি এবং দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত তার ঘুমে কাটে বলে দিনের বেলাতেও খুব একটা বাসা থেকে বের হওয়া হয় না।


ভুতের গল্প সত্য ঘটনা 



আমার বাড়িতে একটা দিঘি আছে এবং বছর খানেক আগের কথা রাত ১১টার সময় আমার একটা ফোন আসে। বাসায় কথা বলতে গেলে সমস্যা হয় বলে বাসা থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। অন্ধকার ছিল বলে একটা ফোনের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে অন্য ফোনটা দিয়ে কথা বলতে বলতে দিঘির পাড়ের রাস্তা ধরে অন্য একটা বাড়ি পার করে মাঠের কাছে যাই। বলে রাখা ভালো রাস্তার পাশেই মাঠ, আর গরমের দিনে ওইখানে প্রচুর ঠান্ডা হাওয়া থাকে। 


কিছুক্ষণ বসলেই শরীর জুড়িয়ে যায় এবং জায়গাটি ছিল তিন রাস্তার মোড়। তিন রাস্তা বা চার রাস্তার মোড় নিয়ে গ্রামে অনেক কথা প্রচলিত আছে।  


আমি ছোট বেলা থেকেই অনেক সাহসী  তাই কোনো কিছু মনে না নিয়ে রাস্তার পাশে বসে ফোনে কথা বলছিলাম। কিছুক্ষণ কথা বলার পর লক্ষ করলাম মাঠের অপর প্র‍ান্ত থেকে সাদা পোশাক পড়ে আমাদের দিকে কেও একজন আসছে। অন্ধকার রাত ছিল আর দূর অনেক বেশি ছিল বলে ভাবলাম কোন মানুষ হয়তো মাঠের মাঝখান দিয়ে হেটে আসছে।


ভুতের গল্প সত্য ঘটনা 



কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর যা দেখলাম তা দেখে নিজেকে স্থির রাখা কষ্টকর ছিল। আমার শরীরে একটু গরম হাওয়া লাগল কিন্তু এসময় গরম হাওয়া,আমি কিছুটা অবাক হলাম। নিজের অজান্তেই কান থেকে ফোন নামিয়ে রাইট বাটুনে ক্লিক করলাম কিন্তু ফোনটিতে আলো জ্বলছে না, ভাবলাম হয়তো বা চার্জ শেষ। যে ফোনটির ফ্লাশ লাইট জ্বালানো ছিল ঐই ফোনটির দিকে তাকিয়ে দেখি ফ্লাশ লাইট বন্ধ। এতোখনে বুঝলাম আমার সাথে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে এবং সামনের দিকে থাকাতেই আমি লক্ষ করলাম ঐই সাদা পোশাক পরিহিত মানুষটি ক্রমেই বড় হতে লাগল।  

banner

আর মাথা মনে হচ্ছিল ক্রমেই বড় হয়ে আকাশ চুম্বি হচ্ছে এবং বুঝলাম এটি মানুষ নয় জীন বা অভোয়ব। আমার শরীর শিউরে উঠল মনে হচ্ছিল কিছু সময়ের জন্য আমি কথা বলার সমস্ত শক্তি হারিয়ে ফেলেছি।


ভুতের গল্প সত্য ঘটনা 



আমি হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম এবং কি করব কিছুই ভেবে পারছিলাম না। জীবনের প্রথম প্রচন্দ ভয় পেলাম এবং শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে দৌড় দিলাম কেন জানি মনে হচ্ছিল আমি ৫ মিনিটের পথ ৩০ সেকেন্ডে পাড় করলাম। যখন দৌড় থামালাম নিজেকে দিঘির কাছে পেলাম। আমি কি দৌড়ে আসলাম নাকি উড়ে আসলাম সেটা নিয়ে আজও আমি সন্দিহান এবং যদি দৌড়ে আসি তবে এতো কম সময়ে কিভাবে সম্ভব। দিঘির কাছে আসার পর দেখলাম আমার ফোনে অটোমেটিক আলো জ্বলে উঠেছে এবং তা দেখে আমি অনেক অবাক হই।


এর আগে দাদুর কাছে অনেক ঘটনা শুনেছি কিন্তু ঐইদিন প্রথম বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম। ঘটনাটি এইখানে শেষ হতে পারত কিন্তু আমার জন্য এর চেয়ে বড় কিছু অপেক্ষা করছিল।


ভুতের গল্প সত্য ঘটনা 



আমি প্রায় ২০ মিনিট দিঘির ঘাটলায় বসে ভাবতে লাগলাম কি ঘটে গেল আমার সাথে এবং ভাবতেই আমার ফোনটা বেজে উঠে অপর প্রান্তে যিনি ছিলেন তিনি হঠাৎ করেই ফোন  কাঁটার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।  আমি জবাবে সমস্যা ছিল বলে তাকে বিধায় জানিয়ে বাসায় চলে আসি এবং ঘুমানোর প্রস্তুতি নেই। শোয়ার কিছুক্ষণ পর আমার চোখে তন্দ্রা লেগে আসে কিন্তু আসে পাশে অন্য বাসার কাকার কথা আমার কানে বাজ্জ ছিল। আমি অনুভব করলাম আমার জানালার বাহিরে ঐই সাদা জামা পরিহিত অভোয়বটি দাঁড়িয়ে আছে এবং আমি তার অবস্থান বুঝতে পারছি কিন্তু ওর মুখের অংশ কোন উপরে থাকার কারণে দেখতে পারছিলাম না।


ভুতের গল্প সত্য ঘটনা


 
কয়েক সেকেন্ড পর আমি অনুভব করলাম আমার পা শিউরে উঠছে এবং মনে হচ্ছে কেও আমার পা থেকে আস্তে আস্তে হাত উপরের দিকে তুলছে। যতই উপরের দিকে তুলছে ততই আমার শরীর জমে যেতে লাগল। আমার পুরোটা শরীর অবশ হয়ে গেল এবং পা আস্তে আস্তে বুক পর্যন্ত অবশ হয়ে আসছে। আমার শরীরের সব গুলি লোম দাঁড়িয়ে যায় এবং আমি চিৎকার করার অনেক চেষ্টা করি কিন্তু কিছুতেই মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছিল না। আমি ভয়ে হাত পা ছড়া ছড়ি করার চেষ্টা করছিলাম অনেক,কিন্তু পারছিলাম না। সাময়িক সময়ের জন্য মনে হচ্ছিল আমার শরীরের  উপর কেও পাথর বসিয়ে রেখেছে  আমি চাইলেও সরাতে পারছি না, ঠিক প্যারালাইজ হলে যেমন কিছুই নাড়াতে পারে না।


এমনকি জিহবাও না ঠিক তেমনি অনুভব করছিলাম।  আমি স্পষ্ট ভাবে বলতে পারব না আমার জ্ঞান ছিল, আমার স্মৃতি ছিল। এসময় আয়াতুল কুরসি পড়া শুরু করলাম এবং হাত পা ছড়াছড়ি করার অনেক চেষ্টা করছিলাম আর মনে মনে আয়াতুল কুরসি পড়ছিলাম। যখন আয়াতুল কুরসির শেষ আয়াতে  আসলাম তখন শরীরে প্রচন্দ শক্তি দিয়ে লাটি দিলাম এবং এতখনে আমার বুকের বোঝা সরে গেছে।

 
চাদঁপুর জেলার ভুতের গল্প সত্য ঘটনা |২০২২|



ভুতের গল্প সত্য ঘটনা 



আমি ঘেমে একাকার হয়ে যাই ঠিক যেমন গোসল করলে হয়ে থাকে। আমি একটা শব্দ শুনলাম ঠিক বিড়াল দেয়ালে বারি খেলে যেমন শব্দ হয় তেমন শব্দ পেলাম। আমি আম্মুকে ডেকে তুললাম তারপর সব ঘটনা খুলে বললাম তখন আমি আর আম্মু মিলে রুমের লাইট জ্বালিয়ে বিড়াল খোঁজার চেষ্টা করি। উল্লেখ্য বিড়াল খোঁজতে গিয়ে হঠাৎ জানালার দিকে চোখ পড়ে কিন্তু দেখলাম জানালা বন্ধ, দরজা বন্ধ তাহলে বিড়াল কোথায় গেল? বিড়ালের শব্দ আম্মুও পেয়েছিল এবং কিছুক্ষণ খোঁজে না পেয়ে আবার রুমে চলে আসি। আম্মু আমাকে শরীরে সূরা পরে ফু দিয়ে দিলেন এবং আমি অনেক বেশি অবাক হই কারণ আমি তুলা রাশির জাতক।

এমন এমন অনেক ঘটনা আমার সাথে প্রতিনিয়ত ঘটে।


ভুতের গল্প সত্য ঘটনা 


এই ছিল আমার সাথে ঘটা ভুতের গল্প সত্য ঘটনা, ঘটনাটি ভালো লাগলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।


ভুতের গল্প সত্য ঘটনা 


আরো পড়ুনঃ-












Post a Comment

Previous Post Next Post